ভারতের ইতিহাস ও রাজনীতিতে বিক্ষোভের প্রভাব: হিন্দিবিরোধী আন্দোলন থেকে কৃষি আইনবিরোধী প্রতিবাদ

নয়াদিল্লি, ভারত — ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে হাজার হাজার সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং নয়াদিল্লিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে পেতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে বেশ কয়েকটি ছাত্রসংগঠন এবং বিভিন্ন মতাদর্শের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলগতভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার মানুষ অংশ নেন, যাঁদের সংখ্যা পুলিশের উপস্থিত সদস্যদেরও ছাড়িয়ে যায়।

নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সংস্কার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিক্ষোভকারীরা। এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতার ওপর সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর আগে, তিন মাসেরও কম সময় আগে একই বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তাঁর সরকারের শিক্ষামন্ত্রী।

মোদি সরকার বিক্ষোভকারীদের জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলন ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে কিংবা দেশটির ভাঙন ত্বরান্বিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ ভারতের রাজপথে আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে শুরু করে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ৭৯ বছরের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা গণআন্দোলন দেশটির আধুনিক পরিচয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সাংবাদিক রশিদ কিদওয়াই আল জাজিরাকে বলেন, “বারবার তৎকালীন সরকার এসব বিক্ষোভের বিরোধিতা করেছে, আবার কখনো কখনো সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনাতেও বসেছে। কিন্তু শুরু থেকেই ভারতের ইতিহাসজুড়ে বিক্ষোভ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top